Friday, 10 April 2015

তোমায় আমায় মিলে গল্প বানাবো 
পাহাড়ী নরম নদী , শক্ত পাথর 
সিক্ত  ঝরনার 
ভালোবেসে দুঃখ পায় নি 
কেউ কি আছে এমন ?
আমার সীমিত কল্পনায় 
অনেক স্বপ্ন বোনার সাহস তো নেই 
যেটুকুই থাক না কেনো  , সে তো শুধু তোমার  ই 
এক্ষুনি বলো না আবার 
যুক্তিহীন অনুভূতি , আলগা অস্থিরতা 
ধূর, ভালবাসা তো এরকম ই 
অকারনে কষ্ট পেলেও 
কাছাকাছি জড়িয়ে থাকার সুখ 
রাত্রি নামা মেঘলা সিঁদুরে 
আলুথালু চুলে 
সুখের ঝলসানো সোহাগ
সাধারণ আর অসাধারণ 
উদোম হাওয়ায় ছিন্ন অন্তরমহল 
দেহজ  যৌনতায় আবার  পেতে চাইবো তোমায় 
তোমায় আমায় মিলে গল্প বানাবো 
পাহাড়ী নরম নদী , শক্ত পাথর
আর 
সিক্ত ঝরনার 



Saturday, 13 December 2014



তুমি এসেছিলে 
একমুঠো নীলচে স্বপ্ন নিয়ে 
উদাসী অভিমান , অনেকক্ষণ চেয়ে থাকা 
দৃষ্টিহীন ব্যাধের অপলক একাগ্রতার মত 
তুমি এসেছিলে , নরম নদী হয়ে 
রিমঝিম সুখের পাড়ভাঙ্গা ঢেউ হয়ে
ছায়া নেই সে স্বপ্নশরীরে 
তুমি এসেছিলে 
মন কেমন করা অস্থিরতার জোয়ার হয়ে 
চোখে মুখে আগুনঝরা কৃষ্ণচূড়া নিয়ে 
বেশ করেছ 
এলোমেলো চুলের বাধন খুলে 
ঢলে পড়তে দাও উদাসী গালে 
তুমি এসেছিলে, আনমনা মাতাল বিকেলে
সোনা রোদের হাসি নিয়ে , 
নরম ছোয়ার আবেশ হয়ে 
শরীরের আড়ালে অন্যরকম আর একটা শরীর 
শীত শীত কুয়াশার চাদর এ মোড়া 
এভাবে দেখো না আমায় 
মাঝে মাঝে নিজের ই মনে হয় 
সর্বস্ম লুঠ করে নেওয়া ডাকাত 
ভালবাসার হাহাকারে আজন্ম ভিখারী 
এভাবে ছুয় না আমায় 
কেপে উঠবে নরম ঠোটের ভাঁজ ,উদ্বাস্তু বন্যতায় 
অন্যরকম প্রশ্রয়ে তুমি এসেছিলে 
এক অদ্ভুত দৃঢ়তা নিয়ে , একগুয়ে নদী র মত 
প্রেমিকা না , সাহসিনী  নারী হয়ে। 

©

Som Shuvra

Wednesday, 26 November 2014

প্রথম ছোয়া 


হঠাত করে যখন আমায় ছুলে 
বয়ে গেলো চোরা স্রোত শিরদাড়া বেয়ে 
কেপে উঠলো শরীর, আলগা পাতার মত 
হাওয়াহীন আকাশ জুড়ে  শিহরণের ফানুস 
এ কেমন স্পর্শ ?
এর জন্য কি ছিলাম তবে অপেক্ষায় 
বুকের ভিতর নাম না জানা গোলাপী  কষ্ট 
দমবন্ধ একরাশ ইচ্ছে -বাধনহারা 
এলো চুলের একগুয়ে অবাধ্যতায় 
ঝিম ধরা দুপুরে, সন্ধে নামে তোমার 
শরীরের আনাচে কানাচে 
নীলচে শিরায় মিষ্টি লাল সবুজ ভালবাসা 
এ ভাবে ছুয়ে দিলে আর একটিবার 
হারাবো না কক্ষনো আমি আর।  

Friday, 21 November 2014




সত্যি করে না হলেও, একবার  
ছুয়ে দেখো পরিনত 
উচ্ছৃঙ্খল ইচ্ছেদের উত্সমুল 
কি ভাবে বেড়ে যায় অভিমানের পাল্লা 
ক্রমশ ভালোলাগায় 
সময়ের ক্ষতে প্রলেপ মিশিয়ে 
কি ভাবে অনুভূতিরা গজিয়ে ওঠে 
 অজান্তে , দূরত্বের ব্যবধান তবুও 
মন জোড়া অস্থিরতায় এলোমেলো তুমি 
তুমি তো আসো , নীলচে বাতাস এ ভর করে 
চোখে নেমে আসা এলোচুল বারবার সরাতে সরাতে 
খোপা থেকে খুলে নেওয়া মাঝরাতে , এক বুক শিহরণ 
তুমি তো আসো , খেয়ালী ইচ্ছেডানা মেলে 
একগাল টোল ফেলে , একগুয়ে নদী হয়ে 
অন্তহীন অপেক্ষার নোনা বালিতে 
একমুঠো জোয়ার হয়ে 
নিরবতার গোপন চুপকথা নিঃশ্বাস এ খোঁজে 
মন কেমন করা ভালবাসা 
সত্যি করে না হলেও, একবার  
ভেসে যাও আবেগী ভালবাসায় 
দেখো ,কেমন করে তুমি থেকে
হয়ে যাই আমরা। 


                                            .........স্বপ্ন সোম 



Thursday, 20 November 2014

ভালবাসি, ভালবাসি
__সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়__

ধরো কাল তোমার পরীক্ষা,রাত জেগে পড়ার
টেবিলে বসে আছ,
ঘুম আসছে না তোমার
হঠাত করে ভয়ার্ত কন্ঠে উঠে আমি বললাম-
ভালবাস? তুমি কি রাগ করবে?
নাকি উঠে এসে জড়িয়ে ধরে বলবে,
ভালবাসি, ভালবাসি..
ধরো ক্লান্ত তুমি, অফিস থেকে সবে ফিরেছ,
ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত পীড়িত..
খাওয়ার টেবিলে কিছুই তৈরি নেই,
রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে ঘর্মাক্ত
আমি তোমার
হাত ধরে যদি বলি- ভালবাস?
তুমি কি বিরক্ত হবে?
নাকি আমার হাতে আরেকটু
চাপ দিয়ে বলবে
ভালবাসি, ভালবাসি..
ধরো দুজনে শুয়ে আছি পাশাপাশি,
সবেমাত্র ঘুমিয়েছ তুমি
দুঃস্বপ্ন দেখে আমি জেগে উঠলাম শশব্যস্ত
হয়ে তোমাকে ডাক দিয়ে যদি বলি-ভালবাস?
তুমি কি পাশ ফিরে শুয়ে থাকবে?
নাকি হেসে উঠে বলবে
ভালবাসি, ভালবাসি..
ধরো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি দুজনে,মাথার
উপর
তপ্ত রোদ,বাহন
পাওয়া যাচ্ছেনা এমন সময় হঠাত দাঁড়িয়ে পথ
রোধ করে যদি বলি-ভালবাস?
তুমি কি হাত সরিয়ে দেবে?
নাকি রাস্তার সবার
দিকে তাকিয়ে কাঁধে হাত
দিয়ে বলবে
ভালবাসি, ভালবাসি..
ধরো শেভ করছ তুমি,গাল কেটে রক্ত পড়ছে,এমন
সময়
তোমার এক ফোঁটা রক্ত হাতে নিয়ে যদি বলি-
ভালবাস?
তুমি কি বকা দেবে?
নাকি জড়িয়ে তোমার গালের রক্ত আমার
গালে লাগিয়ে দিয়ে খুশিয়াল
গলায় বলবে
ভালবাসি, ভালবাসি..
ধরো খুব অসুস্থ তুমি,জ্বরে কপাল পুড়েযায়,
মুখে নেই রুচি, নেই কথা বলার
অনুভুতি,
এমন সময় মাথায় পানি দিতে দিতে তোমার
মুখের
দিকে তাকিয়ে যদি বলি-ভালবাস?
তুমি কি চুপ করে থাকবে?নাকি তোমার গরম
শ্বাস আমার
শ্বাসে বইয়ে দিয়ে বলবে ভালবাসি,
ভালবাসি..
ধরো যুদ্ধের দামামা বাজছে ঘরে ঘরে,প্রচন্ড
যুদ্ধে তুমিও অঃশীদার,
শত্রুবাহিনী ঘিরে ফেলেছে ঘর
এমন সময় পাশে বসে পাগলিনী আমি তোমায়
জিজ্ঞেস করলাম-
ভালবাস? ক্রুদ্ধস্বরে তুমি কি বলবে যাও?
নাকি চিন্তিত আমায় আশ্বাস
দেবে,বলবে
ভালবাসি, ভালবাসি..
ধরো দূরে কোথাও যাচ্ছ
তুমি,দেরি হয়ে যাচ্ছে,বেরুতে যাবে,হঠাত
বাধা দিয়ে বললাম-ভালবাস? কটাক্ষ করবে?
নাকি সুটকেস ফেলে চুলে হাত
বুলাতে বুলাতে বলবে
ভালবাসি, ভালবাসি
ধরো প্রচন্ড ঝড়,উড়ে গেছে ঘরবাড়ি,আশ্রয়
নেই
বিধাতার দান এই
পৃথিবীতে,বাস করছি দুজনে চিন্তিত তুমি
এমন সময় তোমার
বুকে মাথা রেখে যদি বলি ভালবাস?
তুমি কি সরিয়ে দেবে?
নাকি আমার মাথায় হাত রেখে বলবে
ভালবাসি, ভালবাসি..
ধরো সব ছেড়ে চলে গেছ কত দুরে,
আড়াই হাত মাটির নিচে শুয়ে আছ
হতভম্ব আমি যদি চিতকার করে বলি-
ভালবাস?
চুপ করে থাকবে?নাকি সেখান থেকেই
আমাকে বলবে ভালবাসি, ভালবাসি..
যেখানেই যাও,যেভাবেই থাক,না থাকলেও দূর
থেকে ধ্বনি তুলো
ভালবাসি, ভালবাসি, ভালবাসি..
দূর থেকে শুনব তোমার কন্ঠস্বর,বুঝব
তুমি আছ,তুমি আছ
ভালবাসি, ভালবাসি....
কেউ কথা রাখেনি
—সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর
কাটলো কেউ কথা রাখেনি
ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমি তার
আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিলো
শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু
শুনিয়ে যাবে
তারপর কত চন্দ্রভুক
অমবস্যা এসে চলে গেল, কিন্তু সেই
বোষ্টুমি আর এলো না
পঁচিশ বছর প্রতীক্ষায় আছি ।

মামাবাড়ির মাঝি নাদের
আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর
তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল
দেখাতে নিয়ে যাবো
সেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর
ভ্রমর খেলা করে !
নাদের আলি, আমি আর কত বড় হবো ? আমার
মাথা এই ঘরের ছাদ
ফুঁরে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর
তুমি আমায় তিন প্রহরের বিল দেখাবে ?

একটাও রয়্যাল
গুলি কিনতে পারিনি কখনো
লাঠি-লজেন্স
দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্কর বাড়ির
ছেলেরা
ভিখারীর মতন চৌধুরীদের
গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছি ভেতরে রাস
উৎসব
অবিরল রঙ্গের ধারার মধ্যে সুবর্ণ
কঙ্কণ পড়া ফর্সা রমণীরা কতরকম
আমোদে হেসেছে
আমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি !
বাবা আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন,
দেখিস, একদিন আমরাও.
বাবা এখন অন্ধ, আমাদের
দেখা হয়নি কিছুই
সেই রয়্যাল গুলি, সেই লাঠি-লজেন্স,
সেই রাস উৎসব
আমায় কেউ ফিরিয়ে দেবে না।

বুকের মধ্যে সুগন্ধি রুমাল
রেখে বরুণা বলেছিল,
যেদিন আমায় সত্যিকারের ভালবাসবে
সেদিন আমার বুকেও এরকম আতরের গন্ধ
হবে !
ভালবাসার জন্য আমি হাতের মুঠোয়
প্রাণ নিয়েছি
দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়
বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন
করে খুঁজে এনেছি ১০৮ নীলপদ্ম
তবু কথা রাখেনি বরুণা, এখন তার
বুকে শুধুই মাংসের গন্ধ
এখনো সে যে কোন নারী।

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো,
কেউ কথা রাখেনা !

Monday, 17 November 2014

“আমি খুব অল্প কিছু চাই !”
____হুমায়ূন আহমেদ

আমাকে ভালবাসতে হবে না,
ভালবাসি বলতে হবে না.
মাঝে মাঝে গভীর আবেগ
নিয়ে আমার ঠোঁট
দুটো ছুয়ে দিতে হবে না.
কিংবা আমার জন্য রাত
জাগা পাখিও
হতে হবে না.
অন্য সবার মত আমার
সাথে রুটিন মেনে দেখা
করতে হবে না. কিংবা বিকেল বেলায় ফুচকাও
খেতে হবে না. এত
অসীম সংখ্যক “না”এর ভিড়ে
শুধু মাত্র একটা কাজ
করতে হবে আমি যখন
প্রতিদিন এক বার “ভালবাসি” বলব
তুমি প্রতিবার
একটা দীর্ঘশ্বাস
ফেলে একটু
খানি আদর মাখা
গলায় বলবে “পাগলি”
বিশ্বাস কর!
 

Copyright 2010 Bangla Kobita.

Theme by WordpressCenter.com.
Blogger Template by Beta Templates.